আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালত(ICC)

আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালত(International Criminal Court-ICC) ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আদালত সাধারণত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ যেমন- গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ইত্যাদি অপরাধের জন্য দায়ীদের অভিযুক্ত করে থাকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহর থকে এ আদালতরে কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এটি স্থানীয় বিচার ব্যবস্থার বর্ধিত অংশ হিসাবে কাজ করে। অথবা কিছু শর্ত সাপেক্ষে যেমন দেশের বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থা কোন অপরাধীর সাজা দানে অপরাগ বা অক্ষম হলে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আহ্ববানে বা কোন সদস্য রাষ্ট্রের আহ্ববানে এ সংস্থা তদন্ত ও বিচার কার্য পরিচালনা করে। এ আদালতের নিজস্ব কোন বাহিনী না থাকায়। দণ্ড কার্যকর করতে পারে না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশ বা অন্য কোন দেশকে তা কার্যকর করতে বলতে পারে।

এর চারটি অংশ আছে
১. প্রেসিডেন্ট যিনি আইসিসির সর্বোচ্চ বিচারক
২ জুডিশিয়াল কাউন্সিল। প্রেসিডেন্ট জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সদস্যদের মননীত করেন। তারা শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন।
৩ আইনজীবীঃ আইনজীবীরা নিজেরা কোন অপরাধের তদন্ত করেন ও বিচার কার্য শুরু করেন।
৪ রেজিস্টার অফিসঃ আইসিসির সকল প্রশাসনিক দিক দেখেন একজন রেজিস্টার ও রেজিস্টার অফিস।

২০০৪ সালে আইসিসি প্রথমবারের মতো অপরাধের অভিযোগের তদন্তে নামে। ওই বছর গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি।

রাশিয়া, চীন, ভারত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন রোম নীতিমালায় স্বাক্ষর করলেও প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তা প্রত্যাহার করে নেন। কারণ হিসেবে সাবেক এই যুদ্ধবাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছে সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। এই আদালত মার্কিন কূটনৈতিক এবং সেনাদের হাজির করতে পারে এ যুক্তি দেখিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মাধ্যমে ভুল-ভ্রান্তি সমাধানের চেষ্টা করছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা নিধনে জড়িতদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর এ আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনের প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা পরিচালনাকারীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিতে হলে বিশ্বসম্প্রদায়ের জোরালো এবং সমন্বিত চেষ্টা থাকা উচিত। অর্থাৎ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা ভেটো না দিলেও এটা সম্ভব।

Add a Comment