ভুসুকু পা

মূলকথাঃ চর্যায় পদের সংখ্যায় ভুসুকুপা দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী। তাঁর ৮টি পদ চর্যায় সন্নিবেশিত হয়েছে। তিনি নিজেকে বাঙালি বিলে দাবি করেছেন। তাঁর একটি পদে(৪৯ নং) পদ্মা নদীর কথা বলা আছে।

চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা। তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গ ভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু -এই তিন আদ্যাক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত। ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে শান্তিদেব সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবিৎকালের শেষ সীমা ৮০০ খ্রিস্টাব্দ। ধর্ম পালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ খ্রিস্টাব্দ) ভুসুকু জীবিত ছিলেন। তিনি রাউত বা অশ্বারোহী সৈনিক ছিলেন। পরে ভিক্ষু ও সিদ্ধ হন। ‘আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চন্ডালে লেলী।’ -ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়। অনুমান করা হয় তিনি পূর্ব বাংলা কবি। তার পদে বাংলার বিভিন্ন চিত্র উজ্জ্বলভাবে ফুঁটে উঠেছে। তার ৪৯ নং চর্যাটির চারখানা চরণ হল-

“বাজনাব পাড়ী পঁউআ খাঁলে বাহিউ
অদব বঙ্গাল দেশ লুড়িউ ।।
আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী,
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালেঁ লেলী ।।”

আধুনিক বাংলায়ঃ
“বজ্রনৌকা বেয়ে পাড়ি দেই পদ্মা খাল,
দেশ লুট ক’রে নিল অদয় বঙ্গাল।
ভুসুকু, বাঙালি হলি আজ থেকে ওরে,
নিজের ঘরনি গেল চাঁড়ালের ঘরে।”
অনুবাদক

Add a Comment