চর্যাপদে গানের সংখ্যা

মূলকথাঃ ৫১টি পদের মধ্যে টীকাকার মুণিদত্ত ৫০ টি পদের টীকা প্রদান করেন। চর্যার ২৩ নম্বর পদের অর্ধেক, ২৪, ২৫, ও ৪৮ নম্বর পদ একেবারেই পাওয়া যায়নি। তাই হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত ও মুণিদত্তের টীকা সম্বলিত পদের সংখ্যা সাড়ে ছেচল্লিশটি। চর্যাপদে মোট ১৫টি রাগের নাম পাওয়া যায়।

Charyapada
Charyapada

চর্যাপদের মোট গানের সংখ্যা সুকুমার সেনের মতে ৫১ টি। সুকুমার সেন তাঁর ‘চর্যাগীতি পদাবলী (১৯৫৬)’ গ্রন্থে প্রথমত ৫০ টি কবিতার কথা উল্লেখ করলেও সংযোজন করেছেন যে- “মুনি দত্ত পঞ্চাশটি চর্যার ব্যাখ্যা করিয়াছিলেন। টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (একাদশ ও দ্বাদশ চর্যার মাধ্যখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকর উদ্ধৃত করেন নাই, শুধু ‘টিকা নাই’ এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।” উল্লেখ্য যে, মুনিদত্ত ছিলেন সংস্কৃত টীকাকার। বৌদ্ধতন্ত্রে তিনি অভিজ্ঞ ছিলেন বলে চর্যাপদের ব্যাখ্যা হিশেবে ওই সংস্কৃত টীকার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা একান্ত আবশ্যক।

চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদকের নাম কীর্তিচন্দ্র। কীর্তিচন্দ্রের অনুবাদকৃত চর্যাপদ ১৯৩৮ সালে আবিষ্কার করেন ডঃ প্রবোধচন্দ্র বাগচী। সত্য বলতে, মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা এবং ডঃ প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক আবিষ্কৃত চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদের কারণেই আমরা চর্যার আক্ষরিক অর্থ ও গূঢ়ার্থ অনেকটা সহজে ব্যাখ্যা করতে পারি।

অন্যদিকে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যায় গানের সংখ্যা ৫০ টি। আসলে চর্যাপদ ছিন্নাবস্থায় পাওয়া যায় বলে এই মতান্তরের সৃষ্টি হয়েছে।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক আবিষ্কৃত পুঁথিটিতে পূর্ণাঙ্গ পদ পাওয়া গেছে ৪৬টি। এই গ্রন্থের ২৩ নং পদের অর্ধাংশ পাওয়া গিয়েছিল। বাকি ৩টি পদ (২৪, ২৫ ও ৪৮) ছিল না। ২৩ নং পদের শেষাংশ এবং না-পাওয়া ৩টি পদ তিব্বতী অনুবাদ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন প্রবোধকুমার বাগচী। সব মিলিয়ে চর্যাগীতির পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০টি।

চর্যাপদগুলোরে সাথে মোট ১৫টি রাগের নাম পাওয়া যায়। পটমঞ্জরী, কামোদ , বরাড়ী , গুঞ্জরী , গৌড় , দেশাখ , রামকেলি , আশাবরী , মালসী , অরু , দেবগিরি , ধানশী , বঙ্গাল , মল্লারী, ভৈরবী

Add a Comment